রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন
বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক সুকুমার রায় তার ‘পাকাপাকি’ ছড়ায় লিখেছেন, ‘আম পাকে বৈশাখে, কুল পাকে ফাগুনে/ কাঁচা ইঁট পাকা হয় পোড়ালে তা আগুনে। রোদে জলে টিকে রঙ পাকা কই তাহারে। ফলারটি পাকা হয় লুচি দই আহারে। হাত পাকে লিখে লিখে চুল পাকে বয়সে।
ছড়ায় বলা কথার মতোই নরম মাটি দিয়ে তৈরি ইট আগুনে পুড়িয়ে পাকা করা হচ্ছে। তবে সেটা কিসের আগুন?
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়লার আগুনে নয়- কাঠের আগুনে পোড়ানো হচ্ছে ইট। ইটভাটাগুলোতে নেই কোনো চিমনির ব্যবহার। ফলে ধোঁয়ায় বায়ুদূষণ হয়। ইট তৈরির কাঁচামাল মাটি সংগ্রহ করা হয় কৃষিজমির পাশে গভীর গর্ত খুঁড়ে। আইন অমান্য করে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় আবারো চালু হয়েছে লাইসেন্সবিহীন চারটি ইটভাটা। করোনাকালে এসব ইটভাটা বন্ধ ছিল বলে জানান স্থানীয়রা।
স্থানীয় প্রভাবশালী ইটভাটা মালিকরাও স্বীকার করেন, তাদের কোনো সরকারি লাইসেন্স নেই। এমন অবস্থায় ‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ ওই এলাকায় যথাযথভাবে প্রয়োগ হলে এই অবৈধ কাজটি বন্ধ হতো বলে মনে করেন স্থানীয় সুধীজন। তারা অবৈধ ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে জানান।
ইউএনও কার্যালয়ের ‘একনজরে কচুয়া উপজেলা’ তথ্য তালিকায় ইটভাটার (পাঁজা) সংখ্যা ‘নাই’ লেখা আছে। কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একাধিক ইটভাটার ব্যবসা চলছে কচুয়া উপজেলায়। সেখানে কয়লার পরিবর্তে অবৈধভাবে দেশীয় খেজুর, মেহগনি সহ নানা গাছের জ্বালানি কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হয়। ইট তৈরির কাঁচামাল মাটি সংগ্রহ করা হয় পাশের কৃষিজমি থেকে। গ্রামের আবাসিক এলাকা, কৃষিজমি, ফলদ বাগান এলাকায় চিমনি ছাড়াই পোড়ানো হয় ভাটার ইট। ফলে পোড়া কাঠের ধোঁয়ায় আশপাশে বায়ুদূষণ হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, সম্প্রতি আবারো চালু হয়েছে সরকারি লাইসেন্সবিহীন চারটি ইটভাটা (ইটের পাঁজা)। করোনাকালে তৎকালীন ইউএনওর মৌখিক নির্দেশে এসব ইটভাটা বন্ধ ছিল। ধোপাখালী ইউনিয়নের ভাষা ও ছিটাবাড়ি গ্রামে এর অবস্থান। এসব ভাটার মালিকরা হলেন ভাষা গ্রামের ছলেমান শেখের পুত্র করিম শেখ (এমকেএম) ও অদুত শেখের পুত্র রফিকুল ইসলাম (ভিআইপি) এবং ছিটাবাড়ি গ্রামের রশিদ মল্লিকের পুত্র সেলিম মল্লিক (কেএলওয়াই), মোতালেব শেখের পুত্র বাবুল শেখ (পিএটি)।
উপজেলা ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির সভাপতি ধোপাখালী ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম জানান, করোনাকালে সাবেক ইউএনও সাহেবের নির্দেশে ইটভাটাগুলো প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল। বর্তমানে এলাকায় চাহিদার কারণে কিছু ইট পোড়ানো হচ্ছে। তাদের কোনো সরকারি লাইসেন্স বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই বলে তিনি স্বীকার করেন।
ধোপাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন জানান, ইটভাটার মালিকদের নিষেধ করলেও তারা মানছে না। বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে জানিয়েছেন। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।